রবিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৮

অপূর্ণ ইচ্ছেগুলো



অপূর্ণ ইচ্ছেগুলো
       
                 সুকুমার সিনহা

সংসারের মায়ার বাঁধন ছিঁড়ে
মন পাখি হারাতে চায় লাল মাটির দেশে,
আসবো আবার ফিরে এই বাংলায়
লালমাটির ধূলো গায়ে বাউলের বেশে ।

ধূলো মাখা পথে দোতারা নিয়ে হাতে
শোনাতে চাই বাংলার জয়গান,
পথেঘাটে সবাই আকণ্ঠ ভরে
করবে গানের সুধারস পান ।

রাতের আকাশে জোনাকির আলো
নক্ষত্রময় আকাশ যেন নেমেছে ধরার বুকে,
রামধনুর ওই সাতটি রঙ
ঝরে পড়ুক সুরের মূর্ছনায় দোতারার বুকে ----
-------আপন সুখে ।

উষ্ণ মরু ঝড় হয়ে
আছড়ে পড়বো গোবি বা সাহারায়,
অতন্দ্র প্রহরীর মতো
রাতভর রব জেগে তোমাদের পাহারায় ।

ঝরে পড়বো উল্কা হয়ে
ধরার বুকে ঐক্যের বার্তা নিয়ে সাথে,
অণু পরমাণুর মতো বিচ্ছিন্ন সমাজে
যেন সবে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে ঐক্যের মালা গাঁথে ।

ভরবে আকাশ - ভরবে বাতাস
বিহুর নৃত্যকলায় সাঁওতালী গানের সুরে,
হবে একাকার - হৃদয় নিরকার
জাগবো সবাই আরেকটি নতুন ভোরে ।


উত্তর মেলেনি



উত্তর মেলেনি
শুভজিৎ চক্রবত্তী 


 'আনন্দমঠ', বৃদ্ধাশ্রমে শীতের পড়ন্তবেলা বিমর্ষ বিকেল; বিপত্নীক অশিতিপর বৃদ্ধ পরিত্রানবাবু ছলছল চোখদুটি, কাতর কন্ঠে  তাঁর একটি মিনতি -  কেন যে এমন হয়,
একসাথে মায়ের মমতা আর পিতার আদর দিয়ে তিলে তিলে যারে গড়ে তোলা যায়, আপন পিতারে রেখে বৃদ্ধাবাসে একমাত্র পুত্র তাঁর কেন তবে হয়েছে নির্দায়?
কি তার উত্তর দেব আমি, রুদ্ধকন্ঠে কহিলাম - জানিনা, জানিনা,  ঠিক জানে অন্তর্যামী!

'গৌরকুঞ্জ' সনাতন বোষ্টমের বহু পুরানো আখাড়া, সকাল সন্ধ্যায় সংকীর্তনে যার কৈবর্ত্যপ্রধান গ্রাম
নৃসিংহপুর ছিল কৃষ্ঞ প্রেমে নিত্য মাতোয়ারা!
একদিন সংকীর্তনহীন ভোরে শোনা গেল
 'গৌরকুঞ্জবাসী কুসুম বোষ্টমী  কন্ঠি বদলিয়ে  যার সহজিয়া পরিণয় বোধহয় তখনও ছিল বাকী;
সবার অজ্ঞাতে কেমনে জানি সে হল সন্তানসম্ভবা, সনাতন বাবাজির শত অনুরোধে রহিল সে নিরুত্তর
বোবা! সন্তানের পিতৃপরিচয় আজও যায় নাই জানা, কুসুম ঝরিয়া গেল তবু মুখ খুলিলনা!
সব অপমান, লাঞ্ছনা লইয়া আপন শিরে, সন্তানের জন্মদিতে কোথায় হারিয়ে গেল আর আসিলনা ফিরে!

স্কুল কলেজের সেরা ছাত্র পরাক্রম মাঝি, রসায়নে য্যুনিভার্সিটির সেই ছিল সব সেরা বাজি
চ্যান্সেলার, রাষ্ট্রপতি সোনার মেডেল বড় সহজেই গেল তার জুটে, নাসার বৃত্তি নিয়ে দিল সে বিদেশ পাড়ি
পিতামাতা আপন সন্তান গর্বে সাফল্যের সবটুকু তার খেল চেটেপুটে! গবেষণা শেষে নাসার নিশ্চিত
চাকরী হাতে, একবার দেশে ফিরে সংবাদের শিরোনাম, সভা, সম্বর্দ্ধনা, ফ্ল্যাস বাল্বের মুহুর্মুহু সব ঝলকানি শুষে
নিয়ে দেশের গৌরব হল গত; কি কারনে, কেন দিল সে জীবন বলি -  সিলিং ফ্যানই শুধু জানে! সেখানেই ফাঁসির দড়িতে ঝোলা প্রাণহীন দেহ, পরাক্রম কেন আত্মহননের পথ বেছে নিল, আজিও জানেনা তাহা কেহ!

অনু আর চারু মিলে জীবনের প্রথম বেলায় রূপের সাগরে দিয়ে  ডুব করেছিল একটি শপথ, একসাথে হেঁটে পার হবে জীবনের সুকঠিন পথ! ভালবেসে সব বাধা পার হয়ে যাবে, এক হবে দুটি মন! জীবনে সে নাও ঘটে যদি মরনে মিলিবে দোঁহে কাহীনিটা ইতিহাসে নিশ্চত ঠাঁই করে নেবে!! অনুপমা কি সহজে গেল ভুলে সব-
অ্যাংলোইন্ডিয়ান যুবা পিটারের প্রেম সেই হল জীবনের নতুন বাস্তব! মিষ্টভাষী, সুদর্শণ, মেধাবী পিটার
প্রেসিডেন্সিতে ছিল স্বভাবতঃ রমনীমোহন, ফিলদি রিচ এন আর পিতার সে যে বড় আদরের ধন!
গ্রাজুয়েশনের শেষে ধনাঢ্য পিতা এসে, করে সাত তাডাতাডি, পুত্র আর পুত্রবধূ সাথে নিয়ে আবার
বিদেশ দিল পাড়ি! চারুকেশ মজুমদার গণিতে রেকর্ড মার্কস নিয়ে স্নাতকোত্তর, তারপর  হায়ার সেকেন্ডারী স্কুলে এখন সে অঙ্কের টিচার; জীবনের অঙ্কে তবে তার কেন এত ভুল, ঠিকঠাক মেলেনা উত্তর!
আমেরিকাবাসী অনুপমা স্বামী, পুত্র, সংসারের ভরা গাঙে বেশ ভেসে আছে, চারুকেশ পানাশক্ত দলছুট সংসারের মরা নদী পার হবে উপায় নেইকো তার কাছে!

এবার কাহীনি শোনো এক সাবিত্রীর; না, না, সত্যবান স্বামী যার সে সাবিত্রী নয়! আছে তার অন্য পরিচয় -  অষ্টাদশী সাবিত্রীর হয়েছিল বিয়ে, ধনী ব্যবসায়ী স্বামী, সুবৃহৎ ভিটে, ভদ্রাসন, প্রাইভেট কার, ব্যাঙ্কে অগাধ টাকা যাতে সংসার করা যায় বেশ মন দিয়ে! বড় কেয়ারিং স্বামী, বউ-অন্তপ্রাণ দুই সন্তানের পিতা সাবিত্রীকে সাথে করে ভারতভ্রমন শেষ, এইবেলা কাঠমান্ডু, পারো,
পাটায়ায় যেতে তাঁর মন উচাটন! দশটি বছর কবে এরই মাঝে হয়ে গেছে পার, একবারও অসুখের কারন ঘটেনি; সুন্দরী সাবিত্রী মনে হয় সুখী দাম্পত্যের সবচেয়ে বড দাবীদার!
বিধাতার মনে ছিল কি যে কে জানিত? একদিন কাকভোরে প্রদোষ কালের অন্ধকারে, জানা গেল -
এক যুবকের হাতধরে ভরা সংসার, স্বামী, সন্তান পিছে ফেলে, কোথা জানি গিয়াছে সে চলে!
সজ্জ্বন প্রেমিক স্বামী তার পাগলের মত বুকে বয়ে প্রবল দাম্পত্য ক্ষত ঠিক খুজেঁ বের করে তারে বুঝাইল কত!  সাবিত্রীর এক কথা  -  মনে তুমি পেয়না গো ব্যথা! এ আমার কৈশোরের প্রেম, পারিনা ছাড়িতে যদি চাও এ জীবন পারো তুমি নিতে! সিক্ত, আরক্ত চোখদুটি তুলে সাবিত্রীর স্বামী, 'সুখী হও' এইটুকু বলে, কেন এসেছিল চলে, সেও কি আরেক প্রেম, নাকি অভিনয় নয়নের জলে?

সত্তোর ছুঁই ছুঁই বৃদ্ধ স্বাধীনতা আজও শিখে নাই  স্বাধীনতা প্রশ্ন করে -  ঠিক ভুল জেনে নিতে চায়
তবে কি এ আজাদি ঝুঠা, আসলে আমরা পরাধীন, আদপে স্বাধীন নয়?
প্রতি বছরেই মহা সমারোহে বাজে প্রজাতন্ত্র দিবসের ঢাক, রাজপথে কুচকাওয়াজ -  সব সত্য
সযত্নে ঢাকা থাক! জাতির নায়ক নিরুদ্দেশ, দাঙ্গা, মহামারী, দেশ ভাগ, শহীদের রক্তে লাল স্বদেশের মাটি
কেউ সাজে দশ লাখি স্যুটে জনগন বড়ই সজাগ? হে আমার দেশমাতা একবার বলো, উত্তর দাও তুমি মাতঃ
দেশপ্রেমিকের ঢল আজ ঘরে ঘরে তোমার প্রেমিক সংখ্যা কত?

ঐ চাঁদ


    
ঐ চাঁদ
        অভিজিৎ মান্না

        ঐ চাঁদ আজ ভগ্নসুধা
        অনাদরে গোটায় আলো ছটা
       এতটা বেহদ্দ ছিল ভাবনার অতীত
       জিয়নকাঠি কোথায় হারালে ?
       উলম্ব দৃশ্যপাঠ অনেকটাই বাকি ।
      এমন করে আবছা হোয়ও না
      হাত পেতে আছি বর্ণছটা ধরবো বলে ।
       উদাশ দৃষ্টি পথে থেকো পূর্ণসাজে ।
    
          

পলাতক সময়



পলাতক সময় 
                 রাহাত ভাই

কথা ছিল---
যাদুকাটা'র জল যখন শুকিয়ে যাবে
চৈতী খরায়,

ছোট ছোট মাছের পোনা যখন প্রাণপণে
ছোটাছুটি করে
বকের থাবায়।

কিশোরের ত্রিভুজ জাল যখন ভরে যাবে
সোনা ব্যাঙের
ছানায়-ছানায়।

বাতাসে ভর করে যখন গাঙচিল
মেলবে ডানা
মেঘের ছায়ায়।

হাটুজল ভেঙে যখন বউ-ঝিয়েরা
পাড় হয়ে যায়
দুপুর বেলায়।

কথা ছিল---তখন,
দু'জন মিলে--
পাদুকা বিহিন চরণে চরণে--
মরু সুন্দর--তপ্ত বালির প্রান্তর মাড়িয়ে--
ছোঁয়াব চরণ,
ঐ নদীর শীতল জলে।

কথা ছিল--কথা আছে,
কথা শুধু--কথাই রয়ে গেছে,
সব কথার ভীড়ে।
পলাতক সময়ের আড়ালে।

যদিও--এখনো চরণ ভেজাই চৈত্র এলে,
তবে--যে যার মত, একা একা।

ফিরে আর দেখিনা কেউ,
পলাতক সময়ের নন্দিত ঢেউ।

এখনো-- বকের শিকারী ঠোঁট নিশানা করে,
এখনো-- কিশোর জালের ফাঁদে মাছ ধরে,
এখনো-- কাঁদে গাঙচিল তার সাথীর তরে,
উড়ে উড়ে ডানা ঝাপটায় প্রাত-- দুপুরে,

এখনো কিশোর কিশোরী আছে--
জল তরঙ্গের খেলায় মেতে,
শুধু তুমি আর আমি আছি
যে যার মত সংসার পেতে।

কথা ছিল--কথা আছে,
কথা শুধু কথাই রয়ে গেছে,
সব কথার ভীড়ে,
পলাতক সময়ের আড়ালে।

কবি ও কাব্য




কবি ও কাব্য
 আশিক ফয়সাল

বিকেল বেলা বদ্ধ ঘরে একলা যখন বসে
কাব্য কেন আসছেনা আর দেখছি হিসাব কষে।
হঠাৎ তখন এলো মেলো, কোথা থেকে ভাবনা এলো
বললো কবি লাভ কি বৃথা খাতায় কলম ঘষে
কাব্য কবি আসছেনা আজ শুধুই তোমার দোষে।
বদ্ধ ঘরে কবি তুমি ব্যস্ত লেখার কাজে
বদ্ধ ঘরের ভাবনারা খুব বিশ্রী আজে বাজে
কাব্য হবে মুক্ত স্বাধীন, ইচ্ছে খুশি নাচবে তাধিন
বলো কবি, কাব্যের কি বন্দি থাকা সাজে?
বন্দি ঘরে দস্যু থাকে কাব্য থাকে না যে।
কাব্য খুঁজে পাবে কবি সবুজ শ্যামল বনে
আকাশ জুড়ে উড়তে থাকা মুক্ত পাখির মনে।
পাড় বাঁধানো পুকুর ঘাটে, নদীর ধারে হাটে মাঠে
অবসরে যে আসরে ক্লান্তি গল্প শোনে ।
খেটে খাওয়া মানুষ গুলোর মলিন ঠোঁটের কোণে।
কাব্য পাবে শহর গ্রামে ব্যস্ত পথের ধারে
যে পথেতে ভদ্র সমাজ বিবেক পিষ্টে মারে
কাব্য প্রতি প্রতিবাদে, কষ্টে যখন রাষ্ট্র কাঁদে
ডোবে জাতি দিন দুপুরে জমাট ঋণের ভারে
বদ্ধ ঘরে ঠুকলে কপাল কাব্য মেলে নারে ।
চার দেয়ালের ঘরটা ছেড়ে মনটা কবি খুলে
মুক্ত মনে কাব্য খোঁজো সকল বাঁধা ভূলে
শহর গ্রামের ব্যস্ত কলে, কৃষক মজুর শ্রমিক দলে
কাব্য খোঁজো ইতিহাসে সিন্ধু নদীর কূলে
প্রেমিক সেজে কাব্য খোঁজো প্রিয়ার খোলা চুলে
আমি বলি তাই হবে বেশ মিষ্টি মৃদু হেসে
আজ থেকে ঠিক কাব্যটাকে খুঁজবো মেঘে ভেসে
ভ্রমর হয়ে দুলে দুলে খুঁজবো তাকে ফুলে ফুলে
খুঁজবো তাকে দিনের শেষে কান্ত পথিক বেশে
মাঠ ছাড়িয়ে বন পেরিয়ে নিত্য নতুন দেশে ।

কুয়াশায় পিচ্ছিল




কুয়াশায় পিচ্ছিল
মোঃ আশতাব হোসেন

আকাশের উঠান কুয়াশায় পিচ্ছিল
বিষণ্নতায় ঘেরা সূর্যের মুখ,
আগের মতো মুষ্ঠিতে ছড়ায়না রোদ
লেগেছে শরীরে শীতের অসুখ!

প্রকৃতির সদস্য ঝিমায় হীমেল বায়ে
বস্ত্রহীনারা মেঝেতে কাতরায়,
শিশুগুলি অঘুমে কাঁদে সারারাত
অভাবী মা বাবা বড্ড নিরুপায়!

প্রতীক্ষার প্রহর গুনে গুনে নিদ্রাবিহীন
ভোর নিয়ে আসে দীর্ঘশ্বাসে,
কুয়াশার চাদর ভেদ করে  সূর্য যদি
মৃদু তপ্ত উষ্ণতা নিয়ে আসে!

হেরে যায় বুঝি সূর্য ভোরে  পিচ্ছিল পথে
বারবার হোচট খেয়ে পড়ে যায়,
অনিচ্ছা উদারতা হারায় মনে তার
ভিন্ন কোনো পথও খুঁজে না পায়!

ফন্দি —ফিকির




ফন্দি —ফিকির 
                                  তাপস খাঁন

এই যে দাদা ; জানেন দাদা
শুনেছেন কি কিছু ?
অামাদের যে তাপস অাছে
একদিন গিয়েছিলাম তার পিছু ৷
বলবো কি অার সে সব কথা
বড্ড ব্যাকডেটেড ; একঘেয়েমি
মাথায় গোবর ঠাসা ৷
কিসুটি ঠিক পারে নাকো
ভীষণ হাঁদা ভোঁদা৷
অারও অাছে শুনলে পরে ;
বনবনিয়ে ঘুরতে পারে মাথা ৷
অার বলি এক ছেলের কথা
উম.... নামটি যেন কি ?
হ্যাঁ মনে পড়েছে পবিত্র অধিকারী ৷
বিদ্যাতে মা সরস্বতী ; কর্মে বিশ্বকর্মা
একাই একশ নিজেই ভাবে
তাই কাউকে কিছুই করতে দেয়না ৷
ভাব দেখে তার মনে হতেই পারে
ছেলেটি বেশ দামি ,
কিন্তু দাদা চোখটা খুলুন ; ভালো করে তাকিয়ে দেখুন
মনের ভেতর জমা অাছে তার কতটা শয়তানী ৷
লোকের নিয়ে বড়ো হতে চায়
তাই ফন্দি -ফিকির কতো ,
স্বপ্ন দেখে সেও নাকি
একদিন হবে বিবেকানন্দের মতো ৷


মরূ-তৃষ্ণা


  
মরূ-তৃষ্ণা
    নবীনকিশোর রায়

মরূবুকে বালি- ঝড়, উন্মুখ তৃষ্ণা...
মেঘ-আঁচল কাছে আসে
দূরে চলে যায়, রৌদ্র ছায়া ছলনা ।

গোধুলির সূর্য রাতের গর্ভে ডুবে
মোহনসন্ধ্যা মায়াবীরূপ!
খোলা চুল ঢাকে মরূশরীর...
কুযাশা ঝরে, তৃষ্ণা মিটে না

দূর-শূন্যতা, নিকট অপূর্নতা
তৃষ্ণা মরূবুকে নিথর
নিঃসঙ্গ পড়ে রয় বালিয়ারি

প্রণয় গোলাপ


প্রণয় গোলাপ 
অক্ষয় কুমার ঘোষ‌

     বিশ্বমানব হৃদয়ের বিচিত্র প্রণয়ের লীলা,

           উদ্দাম উচ্ছ্বাসে অনির্দ্দেশ‍্য ডানা মেলা,?
   হৃদয় দুর্বলতার বাঁধ ভাঙ্গা আবেগের বশে
      পুষ্পপেলব রাগরক্ত ঠোঁট,ঠোঁটে এসে মিশে,
হৃদয় চায় কি শুধুমাত্র অধরের সুধা পান ?
     বিস্তৃত আনন্দের স্রোতে যে হৃদয় বেপমান।
উপেক্ষিতা  নিসর্গপ্রাণা শকুন্তলার কোমল হৃদয়
বিরহ তপ্ততাপে  প্রেমের লাবণ‍্য করেছে সঞ্চয় ,
       রাধিকার সুতীব্র হাহাকার,মথুরার পথে পথে
ধ্বনিত হতেছে আজও সকরুণ অশ্রুনেত্র পাতে ।
সৃজনের আদি-মধ‍্য-অন্তের প্রেমত্রিবেনীর ধারা,
   সুখে-দুখে,আনন্দ-বেদনায়,সূর্যসম ত‍্যাগে আত্মহারা ।

সবুজ পাতায় প্রণয়াকুল চঞ্চল প্লাস্টিডকণা ,
  সঞ্চারিছে সূর্যপ্রভা ,খাদ‍্যরূপে ফোটনেরকণা।

লোভেরবেলাভূমি নহে তো প্রেমের আঁতুরঘর  !
  লালসার সুতোয় পূতপ্রেম বাঁধে কি কোন ঘর?
বোবা লতার ফাঁকে ফাঁকে ,পার্কের ছাতার ভিতরে
  আধোআলো মাখা ঐতিহ‍্যের লীলাক্ষেত্র,নন্দন চত্বরে
মানব মানবী খুঁজিছে প্রণয়ের স্বাদ,সেথা ঘুরে ফিরে।
   মন যে কখন,কার জন‍্য কাঁদে, কে বুঝে মনের আলাপ,
শিশুর রাঙা আঁখিসম  স্নিগ্ধ, কোমল প্রণয় গোলাপ।        

একটা বিশ্বাস





একটা বিশ্বাস
আমান রহমান


একটা ভাবনা কী চায় তোমার কাছে
কোনো স্বপ্ন ,কিংবা সহযোগিতা
নাকি শব্দকরা দীর্ঘশ্বাস
তুমিও হঠাৎ ভাবতে বসো
আদৌ কি দেবার কিছু আছে ?

একটা ধারণা কি চায় তোমার কাছে
প্রতিশোধের ম্রিয়মান আঁচ
নাকি জলের উপর স্বার্থহীনতা
তুমি কি সমর্থ কিছু দিতে
সেই পাখিদের মতো
যারা শেষ বর্ষায় ফিরে গেছে ।

একটা কবিতা কী চায় তোমার কাছে
একটু সহানুভূতি নাকি শব্দ করা হাততালি
তুমি শব্দ করো হাতে সে পারে না পৌঁছাতে
তোমার কাছে ।
স্মার্ট ফোনে লুকিয়ে যায় মুখ
অসামাজিক অভ্যেস সাড়া দেয় ,
ফুটে ওঠে শ্বেদ বিন্দু গুলো তার সাথে
একটা বিশ্বাস কী চায় তোমার কাছে ।।

সাদা পায়রা




সাদা পায়রা
শুভ্রজিৎ দত্ত 

কোথাও শান্তি নেই আজ,
জানি না কোথায় হারিয়ে গেছে অশোকের সেই তাজ
কিংবা আছে,মাথায় পরার মানুষ হয়তো নেই
কে জানে কীভাবে পৃথিবী হঠাৎ হারিয়ে ফেলল খেই!
সেই কোনকালে বুদ্ধের বলা শান্তির বাণীগুলো
আজকে ফ্রান্সে,মধ্যপ্রাচ্যে হয়েছে পথের ধুলো
ধর্ম আজকে মারতে শেখায়,বাঁচতে শেখায় না,
ঐ ধর্মান্ধ মানুষগুলোর নেই কোনো আয়না
থাকলে হয়তো দেখত যে মুখ মানুষের ছিল আগে
ধর্ম সেটাকে রূপান্তরিত করেছে হিংস্র বাঘে
মানবতারূপী হরিণমাংস খুব সুস্বাদু তাই
যীশুখ্রিস্ট আজও ক্রুশবিদ্ধ হন ইরাক আর সিরিয়ায়।
                              
আজীবন আমি কোরানে,গীতায়,বাইবেলে মুখ গুঁজে
মাথা ঠুকে ঐ মসজিদ আর চার্চের গম্বুজে
আর মন্দিরে ঢুকে শত শত মণ তেল ঢেলে পিলসুজে
জাত কী খুঁজেছি, ধর্ম খুঁজেছি, পাইনি আজও খুঁজে।
বুঝিনি এ জাত কোনদিকে আসে,কোনদিক দিয়ে যায়,
ধর্মের ফলে কেন এ জগৎ ধ্বংসের কিনারায়?
যে জাত আসলে মানুষে-মানুষে একতার কথা বলে,
সেই জাতকেই বিকৃত করে বিভাজন কেন চলে!
যে ধর্ম শুধু ধারণ করে বোমা আর পিস্তল,
কেন সে ধর্মের জায়গা হয়না মহাসাগরের জল?
                            
আমার কোনো জাতটাত নেই,ছিল না তো কোনোদিন,
ধর্ম আমার ঠিক কোনটা-বলাটা খুব কঠিন;
চিরকাল আমি মানুষ ছিলাম, মানুষ‌ই থাকতে চাই
তাইতো আমি হেঁটে গেছি রোজ ইরাক আর সিরিয়ায়
হেঁটে গেছি আমি নাইজেরিয়ায়,হেঁটেছি পাকিস্তানে
যীশুখ্রিষ্টের রক্ত দেখেছি পড়ে আছে সেইখানে।
কোটি কোটি সাদা কঙ্কালের স্তুপের ওপর বসে
যখনই আমার দুই চোখ থেকে অশ্রু পড়েছে খসে,
তখনই দেখেছি নীল আকাশে তুলে এই মুখখানি
লক্ষ লক্ষ সাদা পায়রার পাখনার ঝাপটানি;
ছড়িয়ে পড়তে দেখেছি তাদের পৃথিবীর নানা প্রান্তে,
তখনই আমার ইচ্ছে হয়েছে নতুন করে কাঁদতে।